66

অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়। এটি এমন এক দিন, যেদিন আমাদের গভীরভাবে ভাবা…
Uncategorized

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়। এটি এমন এক দিন, যেদিন আমাদের গভীরভাবে ভাবা দরকার, নারী আসলে সমাজ, পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকে কতখানি বহন করেন, আর তার কতটুকু আমরা দেখি, স্বীকার করি, বা মূল্য দিই। নারী কেবল ঘরের মানুষ নন, তিনি কৃষিক্ষেত্রে শ্রম দেন, গবেষণায় যুক্ত হন, শিল্পখাতে উৎপাদন করেন, সেবাখাতে মানুষের জীবন সহজ করেন, পরিবারে যত্নের ভার বহন করেন, এবং পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তবুও তাঁর কাজের বড় অংশই অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

নারী দিবস কেন পালন করা হয়, তার উত্তর ইতিহাসে যেমন আছে, তেমনি বর্তমানেও আছে। শিক্ষা, ভোটাধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অধিকারের জন্য নারীরা যুগে যুগে সংগ্রাম করেছেন। আজও সেই সংগ্রাম শেষ হয়নি, কারণ অধিকার নিয়ে আইন থাকলেও বাস্তব জীবনে নারীর শ্রম, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মতামত এখনও সমানভাবে মূল্যায়িত হয় না।

নারীর কর্মঘণ্টার কথা যদি বলা হয়, তবে শুধু অফিস, মাঠ, কারখানা বা দোকানে কাটানো সময় দিয়ে তা বোঝা যাবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট অবৈতনিক যত্ন ও গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষেরা ব্যয় করেন গড়ে ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট। অর্থাৎ গৃহস্থালি ও সেবামূলক অবৈতনিক শ্রমে নারীর সময় পুরুষের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। আবার UN Women বলছে, বিশ্বে নারীরা মোট কাজের ৫২ শতাংশ করেন, অথচ সেই কাজের প্রায় অর্ধেকই অবৈতনিক। এই বাস্তবতা দেখায়, নারী কেবল “কাজ করেন” না, অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দুই ধরনের শ্রমের ভার একসাথে বহন করেন।

এখন প্রশ্ন হলো, কৃষিকাজ, গবেষণা, সেবামূলক খাত, শিল্পখাত, এবং গৃহস্থালি ও যত্নশ্রম সব মিলিয়ে পৃথিবীর মোট অর্থনীতিতে নারীদের অবদান কত? এর একক, স্বীকৃত, সরকারি বৈশ্বিক সংখ্যা নেই, কারণ জিডিপি সাধারণত শুধু বাজারে লেনদেন হওয়া উৎপাদন ও সেবার হিসাব রাখে, ঘরের ভেতরের অবৈতনিক শ্রমের নয়। তাই নারীর প্রকৃত অবদান বর্তমান জিডিপির হিসেবে পুরোপুরি ধরা পড়ে না। তবে McKinsey Global Institute-এর হিসাবে, শুধু নারীদের অবৈতনিক যত্নশ্রমের আর্থিক মূল্যই প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশের সমান। অর্থাৎ শুধু যে কাজের জন্য নারীরা কোনো মজুরি পান না, সেই অংশটুকুই বিশ্বের মোট অর্থনীতির বিশাল একটি অংশের সমান মূল্য বহন করে। UN Women আরও বলছে, অনেক দেশে এই অবৈতনিক কাজের মূল্য জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।

এখানেই বড় সত্যটি স্পষ্ট হয়। রান্না, শিশু লালন, বৃদ্ধ ও অসুস্থের পরিচর্যা, পানি আনা, জ্বালানি সংগ্রহ, ঘর পরিষ্কার, পরিবারের মানসিক ভার সামলানো, কৃষির সহায়ক কাজ, পারিবারিক উৎপাদনে শ্রম, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যবসায় অদেখা অংশগ্রহণ, এসব যদি শ্রমভিত্তিক মজুরির আওতায় ধরা হতো, তাহলে বোঝা যেত নারীকে আমরা কত কম মূল্য দিয়েছি। বাস্তবে নারীর শ্রম কম নয়, বরং তার বড় অংশকে আমরা “স্বাভাবিক দায়িত্ব” বলে ধরে নিয়ে অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরে রেখেছি। ফলে নারী অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, কিন্তু সেই অবদান সবসময় তাঁর হাতে আয়, সম্পদ, সিদ্ধান্তক্ষমতা বা সামাজিক স্বীকৃতিতে ফিরে আসে না।

কৃষিখাতে নারীর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বহু দেশে নারীরা বীজ বোনা, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ফসল সংগ্রহ, পশুপালন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পারিবারিক খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখেন। FAO-এর হিসেবে, নারীরা যদি পুরুষদের সমানভাবে জমি, ঋণ, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন উপকরণে প্রবেশাধিকার পেতেন, তাহলে তাদের খামারের ফলন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোট কৃষি উৎপাদন ২.৫ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। অর্থাৎ নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীর জীবনই বদলায় না, খাদ্যনিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা এবং জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।

শিল্পখাত, সেবাখাত, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কারুশিল্প, ডিজিটাল কাজ, গবেষণা ও উদ্ভাবনেও নারীর অংশগ্রহণ একটি দেশের অর্থনীতিকে বহুস্তরে এগিয়ে নেয়। UN Women-এর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত কৌশলপত্র বলছে, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লে শুধু উৎপাদনই বাড়ে না, আয়, সঞ্চয়, করভিত্তি, সামাজিক স্থিতি, এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও শক্তিশালী হয়। World Bank-ও দেখাচ্ছে, নারী পরিচালিত উদ্যোগ পরিবারিক আয় বাড়ায় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যদিও সময়ের চাপ, দক্ষতার ঘাটতি, অর্থায়নের বাধা এবং সামাজিক সীমাবদ্ধতা তাদের ব্যবসা বড় হতে দেয় না।

এই জায়গাতেই গৃহিণী, তরুণী, গ্রামীণ নারী, স্কুল বা কলেজ-পড়ুয়া কিশোরী, কর্মবিরত নারী, বিধবা, একক মা, এবং প্রান্তিক নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেলাই, ফুড প্রসেসিং, কৃষি প্রযুক্তি, নার্সিং সহায়তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স, বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার, হোম-বেইজড ম্যানুফ্যাকচারিং, মোবাইল সার্ভিসিং, লাইভস্টক ম্যানেজমেন্ট, হস্তশিল্প, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, কাস্টমার সার্ভিস, এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নারীদের আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। ILO (International Labour Organization) বলছে, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও সহায়ক সেবা নারীদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা, ব্যবসার ফলাফল এবং সামগ্রিক কল্যাণ উন্নত করতে পারে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং জাতীয় সমৃদ্ধির প্রশ্ন, সেটি বোঝা জরুরি। একজন গৃহিণী যদি দক্ষতা প্রশিক্ষণ পেয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারেন, তবে পরিবারে একক উপার্জন নির্ভরতা কমে। একজন তরুণী যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হন, তবে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেন না, আরও অন্য নারীর জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। একজন কৃষি-নির্ভর নারী যদি উন্নত চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বাজার সংযোগ শেখেন, তবে পারিবারিক উৎপাদন নগদ আয়ে রূপ নিতে পারে।

একজন নারী যদি আর্থিকভাবে সক্ষম হন, তবে সন্তানের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ে। World Bank-এর সাম্প্রতিক উপস্থাপনায়ও দেখানো হয়েছে, নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগে বিনিয়োগের একটি বহুগুণ প্রভাব আছে, এবং নারীরা প্রায়ই তাদের আয়ের বড় অংশ পরিবার ও কমিউনিটিতে পুনর্বিনিয়োগ করেন।

অর্থাৎ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা মানে শুধু “নারীর উন্নয়ন” নয়, বরং পরিবারিক স্থিতি, স্থানীয় বাজার, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সঞ্চয়, শিশুদের মানবসম্পদ উন্নয়ন, এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে একসাথে শক্তিশালী করা। যে পরিবারে নারী আয় করেন, সেই পরিবারে সিদ্ধান্তের ভারসাম্য বাড়ে। যে সমাজে নারীরা দক্ষ ও উদ্যোক্তা হন, সেই সমাজে দারিদ্র্য কমার সম্ভাবনা বাড়ে। আর যে রাষ্ট্র নারীর দক্ষতা, অর্থায়ন, বাজারসংযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন হয় বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থায়ী।

তবে শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। প্রশিক্ষণের সঙ্গে লাগবে সুলভ ঋণ, বাজারে প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল সাক্ষরতা, পণ্য মানোন্নয়ন, নিরাপদ যাতায়াত, শিশুযত্ন সহায়তা, আইনি সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা, এবং পারিবারিক সমর্থন। কারণ বহু নারী দক্ষতা অর্জন করলেও সময়ের অভাব, অবৈতনিক যত্ন শ্রমের চাপ, সামাজিক বাধা এবং মূলধনের অভাবে উদ্যোগে টিকে থাকতে পারেন না। ILO ও World Bank উভয়ই বলছে, নারীদের উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত বাধা দূর না করলে তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না।

নারীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়টিও অর্থনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একজন নারী নিরাপদ না হলে, তিনি বিদ্যালয়ে টিকে থাকতে পারেন না, কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত থাকতে পারেন না, বাজারে যেতে পারেন না, উদ্যোগ নিতে পারেন না, এমনকি ঘরের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারেন না। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নারীর নিরাপত্তাকে “নিজের দায়িত্বে সাবধানে থাকা”তে সীমাবদ্ধ না রেখে, এটিকে অধিকার, আইন, সেবা ও সামাজিক আচরণের প্রশ্ন হিসেবে দেখা। পরিবারে ছেলে ও মেয়েকে সমমর্যাদা শেখানো, সমাজে হয়রানি ও দোষারোপের সংস্কৃতি ভাঙা, আর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার, নিরাপদ অভিযোগব্যবস্থা, আশ্রয়, কাউন্সেলিং ও কর্মক্ষেত্র সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

আর নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণ দিলেই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সফট স্কিল ও লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণও অত্যন্ত জরুরি। কারণ একজন নারী শুধু একটি কাজ শিখলেই সফল হন না, সেই কাজকে টিকিয়ে রাখা, উন্নত করা, বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা, সমস্যা সমাধান, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, আর্থিক সচেতনতা, আলোচনার দক্ষতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, মানসিক চাপ মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান, আইনি অধিকার সম্পর্কে ধারণা, আত্মরক্ষা, এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মতো বিষয়গুলো নারীর কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

একজন গৃহিণী যদি কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, হিসাবরক্ষণ, গ্রাহক ব্যবস্থাপনা এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন, তবে তিনি ঘরে বসে ছোট কাজ থেকে বড় উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারেন। একজন তরুণী যদি পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখেন, তবে তিনি শুধু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকবেন না, কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। আবার সফট স্কিল নারীদের আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা বাড়ায়, নিজস্ব মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে শেখায়, শোষণ বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেয়, এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার শক্তি তৈরি করে।

লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এটি নারীকে শুধু আয়মুখী করে না, বরং জীবনমুখী করে। এতে নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন, আত্মমর্যাদা অর্জন করেন, পারিবারিক ও সামাজিক চাপে ভেঙে না পড়ে স্থিরভাবে এগোতে শেখেন, এবং নিজের ও পরিবারের উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারেন। ফলে কর্মদক্ষতা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা, পেশাগত স্থায়িত্ব এবং সামাজিক প্রভাব। অর্থাৎ কারিগরি দক্ষতা নারীকে কাজ শেখায়, আর সফট স্কিল ও লাইফ স্কিল তাকে সেই কাজের মাধ্যমে টেকসই সাফল্য অর্জনের শক্তি দেয়।

এ কারণে নারী উন্নয়নের পরিকল্পনায় কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সফট স্কিল ও লাইফ স্কিলকে বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে যুক্ত করা উচিত। তবেই নারী কেবল শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, একজন দক্ষ, সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবেন। আর এমন নারীই পরিবারকে শক্তিশালী করবে, সমাজকে এগিয়ে নেবে এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আরও টেকসই করে তুলবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নারী দিবসের চেতনা কেবল প্রতীকী সম্মান নয়, বাস্তব পরিবর্তন। নারীকে ফুল দিয়ে সম্মান জানানো সহজ, কিন্তু তাঁর শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁর কাজের অর্থনৈতিক মূল্য বোঝা, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁর সময়ের ওপর তাঁর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, এবং তাঁকে দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ দেওয়া, এটাই আসল কাজ। নারী ও পুরুষ একসাথে দায়িত্ব ভাগ করে, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে, সমান সুযোগ সৃষ্টি করলে তবেই পরিবার হবে ভারসাম্যপূর্ণ, সমাজ হবে ন্যায়ভিত্তিক, আর উন্নয়ন হবে টেকসই।

আমাদের সবার মনে রাখতে হবে:

• নারীর অবদান শুধু দৃশ্যমান চাকরিতে নয়, অদৃশ্য যত্নশ্রমেও।

• নারীর শ্রম শুধু পরিবার বাঁচায় না, অর্থনীতিও সচল রাখে।

• নারীর দক্ষতায় বিনিয়োগ মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে বিনিয়োগ।

• আর নারী উদ্যোক্তা তৈরি মানে একটি দেশের ভেতর থেকে

উন্নয়নের নতুন ভিত্তি তৈরি করা।

9s2zd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *